কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫ এ ০৫:০২ AM
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংক্ষিপ্ত তথ্য
কন্টেন্ট: পাতা
মন্ত্রণালয় সৃষ্টির পটভূমি
- স্বাধীনতা উত্তর বন, মৎস্য ও পশুপালন নামে কৃষি মন্ত্রণালয়ের একটি বিভাগ ছিল
- ১৯৭৮ সালে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা হয়ে মৎস্য ও পশুপালন মন্ত্রণালয় গঠন, ১৯৮৪ সালে পুনরায় মৎস্য ও পশুপালন বিভাগ নামে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিভাগে পরিণত হয়
- ১৯৮৬ সালে পুনরায় মৎস্য ও পশুপালন মন্ত্রণালয় নামে পুনর্গঠিত হয়
- ১৯৮৯ সালে মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং সর্বশেষ ২০০৯ সালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় হিসেবে নামকরণ করা হয়
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভিশন ও মিশন
রূপকল্প (Vision)
সকলের জন্য নিরাপদ, পর্যাপ্ত ও মানসম্মত প্রাণিজ আমিষ নিশ্চিতকরণ
অভিলক্ষ্য (Mission)
মৎস্য ও প্রাণিজ পণ্যের উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে প্রাণিজ আমিষের চাহিদাপূরণ
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর/সংস্থা (০৮ টি)
- মৎস্য অধিদপ্তর
- প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর
- বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন
- বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট
- বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনষ্টিটিউট
- মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর
- মেরিন ফিশারিজ একাডেমি
- বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিল
মাছ, মাংস, দুধ ও ডিমের উৎপাদন (২০১৮-১৯ থেকে ২০২২-২৩)
| | ২০১৮-১৯ | ২০১৯-২০ | ২০২০-২১ | ২০২১-২২ | ২০২২-২৩ | ২০২৩-২৪ |
| মাছ (লাখ মে. টন) | ৪৩.৮৪ | ৪৫.০৩ | ৪৬.২১ | ৪৭.৫৯ | ৪৯.১৫ | ৫০.৮০ |
| মাংস (লাখ মে. টন) | ৭৫.১৪ | ৭৬.৭৫ | ৮৪.৪০ | ৯২.৬৫ | ৮৭.১০ | ৯২.২৫ |
| দুধ (লাখ মে. টন) | ৯৯.২৩ | ১০৬.৮০ | ১১৯.৮৫ | ১৩০.৭৪ | ১৪০.৬৮ | ১৫০.৪৪ |
| ডিম (কোটি) | ১৭১১.০০ | ১৭৩৬.০০ | ২০৫৭.৬৪ | ২৩৩৫.৩৫ | ২৩৩৭.৬৩ | ২৩৭৪.৯৭ |
জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন (২০১৮-১৯ থেকে ২০২২-২৩)
| | ২০১৮-১৯ | ২০১৯-২০ | ২০২০-২১ | ২০২১-২২ | ২০২২-২৩ |
| ইলিশ | ৫.৩৩ | ৫.৫০ | ৫.৬৫ | ৫.৬৭ | ৫.৭১ |
- মৎস্য খাতে প্রায় ১২ শতাংশ জনগণ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জীবিকা উপার্জনে জড়িত;
- প্রাণিসম্পদ খাতে ২০% প্রত্যক্ষ এবং ৫০% পরোক্ষভাবে জীবিকা নির্বাহ করছে;
- জাতীয় মাছ ইলিশ এবং বাগদা চিংড়ি ভৌগলিক নির্দেশক পণ্য (GI) হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে;
- ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল ভৌগলিক নির্দেশক পণ্য (Geographical Index) হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে;
জিডিপিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের অবদান (২০১৮-১৯ থেকে ২০২২-২৩)
| খাত | | ২০১৮-১৯ | ২০১৯-২০ | ২০২০-২১ | ২০২১-২২ | ২০২২-২৩ |
| মৎস্য খাত | জিডিপি | ২.৭০ | ২.৭১ | ২.৬৪ | ২.৫৩ | ২.৪১ |
| কৃষিজ জিডিপি | ২১.৫০ | ২১.৬৫ | ২১.৮৭ | ২১.৭৯ | ২১.৫২ |
| জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার | ৪.৯৯ | ৪.৪০ | ৪.১১ | ২.৬৪ | ১.১৪ |
| জিডিপি’র আয়তন (চলতি বাজার মূল্যে) | ৭৭১৩৬ | ৮৪২১৬ | ৯১৮২২ | ৯৯০২০ | ১০৭৬৭২ |
| প্রাণিসম্পদ খাত | জিডিপি | ২.০৭ | ২.০৬ | ১.৯৮ | ১.৯১ | ১.৮৫ |
| কৃষিজ জিডিপি | ১৬.৪৮ | ১৬.৪৫ | ১৬.৪০ | ১৬.৪৫ | ১৬.৫২ |
| জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার | ৩.০১ | ৩.১৯ | ২.৯৪ | ৩.১০ | ৩.২৩ |
| জিডিপি’র আয়তন (চলতি বাজার মূল্যে) | ৫৬২৯০ | ৫৯৭১৫ | ৬৩২৯৩ | ৬৭৩৯৯ | ৭৩৫৭১ |
| মোট জিডিপি এবং মোট কৃষিজ জিডিপি’তে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের অবদান | ৪.৭৭ | ৪.৭৭ | ৪.৬২ | ৪.৪৪ | ৪.২৬ |
| ৩৭.৯৮ | ৩৮.১০ | ৩৮.২৭ | ৩৮.২৪ | ৩৮.০৪ |
ইলিশ ও সামুদ্রিক মাছের নিরাপদ প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে গৃহীত কার্যক্রমঃ
- বঙ্গোপসাগরে ইলিশসহ অন্যান্য মাছের প্রজনন নিরবচ্ছিন্ন করার জন্য প্রতিবছর ১৫ এপ্রিল হতে ১১ জুন পর্যন্ত ৫৮ দিন বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় ১৪ জেলায় মাছ ধরা বন্ধ থাকে। এ সময় নির্ধারিত জেলে পরিবার প্রতি ৪০ কেজি চাল খাদ্য সহায়তা হিসেবে প্রদান করা হয়।
- মা ইলিশ রক্ষার্থে প্রতিবছর অক্টোবর মাসে ২২ দিন সারাদেশে সব ধরণের মাছ ধরা বন্ধ থাকে। এ সময় ২৫ কেজি হারে খাদ্য সহায়তা (চাল) প্রদান করা হয়।
- জাটকা নিধন প্রতিরোধ কার্যক্রম বাস্তবায়নে ইলিশের অভয়াশ্রম গুলোতে ৪ মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকে। এ সময় মৎস্য আহরণে বিরত মৎস্যজীবী/জেলেদের মাসিক ৪০ কেজি হারে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়।
- মাছ ধরা বন্ধকালীন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১২,২৬,৮১৮টি জেলে পরিবারকে প্রায় ৯৮,৩৬২.৫৫ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য ভিজিএফ হিসেবে দেয়া হয়েছে এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ডিসেম্বর / ২০২৩ পর্যন্ত ১২,৫৩,৭৭১টি জেলে পরিবারকে ৫২,৬২৪.৭৪ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য ভিজিএফ হিসেবে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
- তাছাড়া মৎস্য সম্পদ রক্ষায় প্রতিবছর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে চার ধাপে মোট ৩০ দিন ক্ষতিকর জাল ধ্বংসে কম্বিং অপারেশন পরিচালনা করা হয়।
বাজেট সংক্রান্ত তথ্য
| ব্যয় খাত | ২০২৩-২৪ এডিপি | সংশোধিত বাজেট (প্রস্তাবিত) | ২০২৪-২৫ এডিপি (প্রস্তাবিত) |
| পরিচালন বরাদ্দ | ১৮১২৭৩.২১ | ১৮০০৩২.৬৪ | ১৯১৫৫৪.০০ |
| উন্নয়ন বরাদ্দ | ২৪২৭১৫.০০ | ২২৬২৭৯.০০ | ২৩৫৫৬৭.০০ |
| মোট | ৪২৩৯৮৮.২১ | ৪০৬৩১১.৬৪ | ৪২৭১২১.০০ |
কোভিড-১৯ চলাকালীন বিশেষ উদ্যোগ
- ক্ষতিগ্রস্থ খামারীদের মধ্যে ৬,৭৯,৭৭১ জন খামারীকে ৮১৮.৮৩ কোটি টাকা মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে নগদ প্রণোদনা প্রদান করা হয়েছে।
- মহামারি চলাকালীন ১,৫৫,৯৭২ জনকে ৮৪ কোটি টাকার উৎপাদন উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
- বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬৩,০৮১ জন খামারিকে ১৪৪৩ কোটি টাকা সহজশর্তে ঋণ সহায়তা দেয়া হযেছে।
- খামারীদের উৎপাদিত মাছ, মাংস, দুধ, ডিম সংগ্রহ করে ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় প্রায় ৯৫০০ কোটি টাকার পণ্য বিক্রয় করা হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা/টার্গেটঃ
- মৎস্যচাষ উৎপাদন টেকসই ও বহুমুখী করার জন্য কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ও মৎস্যচাষের উলম্ব বিস্তারে প্রধান অগ্রাধিকার দান;
- মৎস্য খাত সংশ্লিষ্ট সুনীল অর্থনীতির তৎপরতা থেকে সুফল আহরণের জন্য যৌথ সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টা গ্রহণ করা;
- মৎস্য ও মৎস্যপণ্যের মূল্য শৃঙ্খলের (Value chain) জন্য বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ আকর্ষণ করা;
- উন্নত চাষ প্রযুক্তির ব্যবহারে কৃষক/উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম গ্রহণ করা;
- আধুনিক ল্যাবরেটরি ও প্রসেসিং শিল্প স্থাপনা পরিচালনার জন্য উন্নত দক্ষতাসম্পন্ন ও প্রশিক্ষিত জনশক্তি গড়ে তোলা;
- প্রশিক্ষণ ও মাঠ প্রদর্শনীর মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে সম্প্রদায়/গরিব মৎস্যচাষীদের জন্য মৎস্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেম ও অভিযোজনমূলক মৎস্যচাষ প্রযুক্তির প্রবর্তন করা;
- জেলে সম্প্রদায় যেহেতু একান্তভাবেই জলজ সম্পদের ওপর নির্ভরশীল, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে যার পরিবেশ অতীব অরক্ষিত ও ভঙ্গুর, তাই তাদের জীবিকা/উপজীবিকার ব্যাপারে বিশেষ বিবেচনা/গুরুত্বদান করা হবে।
- মিঠা পানি ও সামুদ্রিক ইকোসিস্টেমে মৎস্য আহরণ ও ম্যানুফ্যাকচারিং ব্যবস্থার উন্নতি সাধন করা
- ফিশ বল, ফিশ বার্গার, ফিশ পেস্ট, ফিশ স্টিক, ফিশ নুডুলস্ প্রভৃতি ম্যানুফ্যাকচারিং;
- দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ শিল্প এবং হিম-শিকল (Cold chain) যোগাযোগ ব্যবস্থা করা;
- প্রক্রিয়াজাত পণ্যসহ দুধ, ডিম, মাংসের টেকসই উৎপাদনে সহয়তা প্রদান;
- অভিযোজিত গবেষণার মাধ্যমে প্রয়োজন মাফিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তি সম্প্রসারণকর্মী, পরিকল্পনাবিদ, পশু খামারি ও অন্যান্য অংশীজনকে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি হস্তান্তর;
- জলবায়ু সহনশীল ও সুলভ মূল্যে পশু খাদ্য ও তার উপকরণের উন্নয়ন; এবং
- বাণিজ্যিকভিত্তিতে পশু থেকে উৎপাদিত পণ্য ও উপজাত পণ্য উৎপাদন, বিপণন ও রপ্তানিতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
- ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মাছ, মাংস, দুধ ও ডিমের চাহিদা তথা উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা যথাক্রমে ৪৯.৯৫ লক্ষ মে:টন (৭৬ গ্রাম/ দিন/ মাথাপিছু), ৮৫.১০ লক্ষ মে:টন (১৩০ গ্রাম/ দিন/ মাথাপিছু), ১৬৩.৬০ মে:টন (২৫০ মি:লি:/ দিন/ মাথাপিছু); এবং ২২৩৯৩ (১২০টি/প্রতিবছর /জনপ্রতি